
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অভিমান করে এক কিশোর স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে। নিহত কিশোরের নাম বাদল মোল্যা (১৬)। সে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের কালডাঙ্গা গ্রামে বাদল মোল্যার নিজ বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।
নিহত বাদল মোল্যা কালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মিঠু মোল্যার একমাত্র ছেলে। সে উপজেলার পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাদল তার পরিবারের কাছে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি জানায়। তবে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তার পরিবার মোটরসাইকেল কিনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
ঘটনার দিন বিকেলে বাদল বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। পরে সে একা বাড়িতে ফিরে নিজ কক্ষে ঢুকে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পান।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ফ্যান থেকে নামিয়ে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক বাদলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বিষয়টি কালিয়া থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতেই মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরদিন সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা বাদলের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানান, সামান্য পারিবারিক বিষয় নিয়ে এমন চরম সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সচেতনতার অভাবেরই প্রতিফলন।
সচেতন মহল মনে করছেন, কিশোরদের মানসিক চাপ ও আবেগগত বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও সতর্ক হতে হবে। সময়মতো মানসিক সহায়তা ও পারিবারিক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন