
খাগড়াছড়িতে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর জোন ৩০ বীর-এর অধীনস্থ ভাইবোন ছড়া ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনায় এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপকৃত হয়েছে সদর উপজেলার বলং হামারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে সংযোজনযোগ্য) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা, কলম, পেনসিল, জ্যামিতি বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সদর জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মোঃ নাহিদ হাসান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে তোমাদের নিজেদের একজন যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান।
লেফটেন্যান্ট মোঃ নাহিদ হাসান আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সেনাবাহিনী সবসময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার শিব মন্দির পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সার্বিক পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেন। এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন আনন্দিত হয়েছে, তেমনি পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহও বেড়েছে। তারা বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করার পাশাপাশি ঝরে পড়া রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলাকাবাসী জানান, শিক্ষা উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহযোগিতা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা মূলধারার সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবে।
মন্তব্য করুন