
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সীমান্তে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) সদস্যরা মিষ্টি উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা আদান-প্রদান করেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে হিলি সীমান্তের ২৮৫ নম্বর মেইন পিলারের ১১ নম্বর সাব-পিলার সংলগ্ন চেকপোস্ট গেটের শূন্যরেখায় এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা এ আয়োজন করেন, যা সীমান্ত এলাকায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে ৭৯ ব্যাটালিয়নের ভারতীয় হিলি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রহিদ শর্মার হাতে চার প্যাকেট মিষ্টি তুলে দেন বাংলাহিলি সিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মো. আলাউদ্দিন। জবাবে বিএসএফ সদস্যরাও বিজিবির সদস্যদের চার প্যাকেট মিষ্টি উপহার দেন। এ সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নারী ও পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুধু ঈদুল ফিতর নয়, বরং বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবেও দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতি চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।
বাংলাহিলি সিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মো. আলাউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, “দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতেই আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দিবসে এ ধরনের উপহার বিনিময় করে থাকি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা তাদের মিষ্টি উপহার দিয়েছি এবং তারাও আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মিষ্টি প্রদান করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগ সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব বজায় থাকলে সীমান্তসংক্রান্ত নানা সমস্যা সমাধানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষও এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে সীমান্ত অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হয়।
সার্বিকভাবে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই শুভেচ্ছা বিনিময় সীমান্তে মানবিকতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন