সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ক্ষিদ্রচাপড়ী দক্ষিণপাড়ায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ক্ষিদ্রচাপড়ী যুব সমবায় সমিতির ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গ্রামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সী মানুষ, বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়, লং জাম্প, ব্যালেন্স গেমসহ নানা ইভেন্টে অংশ নিয়ে শিশু-কিশোররা আনন্দঘন সময় কাটায়। প্রতিযোগিতার প্রতিটি আয়োজনে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য ও উচ্ছ্বাস, যা পুরো এলাকাকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মোঃ শফিকুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই, তরুণরা মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থেকে সুস্থ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে নিজেদের নিয়োজিত রাখুক। ভবিষ্যতেও সমিতির এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর কল্যাণ ট্রাস্টের মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মোঃ শাহাআলম সরকার, আলম প্রামানিক এবং সাংবাদিক মোঃ আশিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে যুব সমাজকে সচেতন, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সমিতির সেক্রেটারি মোঃ হাফিজুর রহমান, ক্যাশিয়ার মোঃ মমিন সরকার, সহকারী ক্যাশিয়ার মোঃ বেলাল হোসেনসহ পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়াও মনিরুল ইসলাম, মজনু ফকির, রাকিব ও দুলালসহ সকলে সার্বিক সহযোগিতা করেন। সমিতির প্রবাসী সদস্যরাও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা প্রদান করে অনুষ্ঠানের সাফল্যে অবদান রাখেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং তা সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা অংশগ্রহণকারী, অতিথি ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নিয়মিত আয়োজন যুব সমাজকে আরও সংগঠিত ও সচেতন করে তুলবে, যা একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন