
দেশে পেট্রোল পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই, তবে চাহিদার তুলনায় জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই এই সমস্যার সমাধান হবে।
সোমবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল কবির জানান, মূলত ঈদ উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করা যাচ্ছে না। এর ফলে ডিপো থেকে নতুন করে জ্বালানি উত্তোলনে বাধা তৈরি হয়েছে। এই কারণেই দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পাম্পগুলোতে জ্বালানি পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতি নয়, বরং সীমিত সরবরাহের কারণে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি বেশি দেখা যাচ্ছে।
এর আগে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন জানায়, বর্তমানে সারাদেশের পাম্পগুলোর অবস্থা বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রতিদিন কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে পাম্পে কর্মরত কর্মচারীদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে গিয়ে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের একটি পাম্পে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও সমপরিমাণ অকটেন মজুত ছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় এই পরিমাণ জ্বালানি কয়েক দিন চলার কথা থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদা ও হঠাৎ ভিড়ের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। একই ধরনের পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া কিছু এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারও অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে গিয়ে জোরপূর্বক জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা, এমনকি কোথাও কোথাও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে পাম্প মালিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক ও অফিস-আদালত খুলে গেলে জ্বালানি উত্তোলন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। তখন বর্তমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং পেট্রোল পাম্পগুলো আবার আগের মতো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবে।
মন্তব্য করুন