
পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পাটগ্রামের সাহেবডাঙ্গা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে দর্শকদের হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। এবারের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত থাকায় কুচকাওয়াজ এবং শারীরিক কসরতের চমকপ্রদ দৃশ্য ছিল খুবই নগণ্য।
দিবসের আনুষ্ঠানিক শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টায়। সরকারি বাহিনীর মধ্যে ছিলেন পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ ছিল খুবই কম। মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করলেও, শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেছে মাত্র ২-৩টি প্রতিষ্ঠান। সাধারণ দর্শকেরা জানান, অন্যান্য বছর যেখানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাঠ দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত থাকত, এবারের চিত্র ছিল বেশ হতাশাজনক।1
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিতিই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিও আশানুরূপ ছিল না। তবে অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি যথাসময়ে ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, “আমরা লক্ষ্য করেছি অংশগ্রহণ খুবই কম। সকল প্রতিষ্ঠানকে আগেই জানানো হয়েছিল, কিন্তু কেনো অনুপস্থিত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, আগামীতে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় জনগণ মনে করছেন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয় না; এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। তাদের অনুপস্থিতি অনুষ্ঠানকে দর্শক-বান্ধব ও আকর্ষণীয় করার সুযোগকে হ্রাস করেছে।
পাটগ্রাম সাহেবডাঙ্গা স্টেডিয়ামে এবারের কুচকাওয়াজ প্রমাণ করেছে যে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় আবশ্যক।
মন্তব্য করুন