
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় যৌথবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান চালানো হয়।
লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার দিঘলিয়া ও আগ্রাহাটি এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লোহাগড়া সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল প্রথমে দিঘলিয়া গ্রামের মো. কামরুজ্জামান মণ্ডলের ছেলে তোফায়েল মণ্ডল (২৫)-এর বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তার বসতঘরের একটি ওয়ারড্রব থেকে একটি চাইনিজ তৈরি ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটারের পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় তোফায়েল মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত তোফায়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে যৌথবাহিনী উপজেলার আগ্রাহাটি এলাকার ছোটন মোল্যার মাছের ঘেরে অভিযান চালায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—লাহুড়িয়া ডহরপাড়া গ্রামের তবিবুর বিশ্বাসের ছেলে মো. রাসেল বিশ্বাস (১৯), সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বইশখালি গ্রামের মৃত নূর ইসলাম গাজীর ছেলে ইসমাইল হোসেন ওরফে পিন্টু (৫০) এবং একই গ্রামের মৃত তোফাজ্জল গাজীর ছেলে আমিনুর গাজী (৪৫)।
যৌথবাহিনীর সদস্যরা তাদের দেওয়া তথ্যমতে মাছের ঘেরের বিভিন্ন স্থান তল্লাশি চালিয়ে একটি এয়ারগান, প্রায় ৮০০ পিস গুলি, মদক, চাপাতি, দা, রামদা সহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো এলাকায় সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা ছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
লোহাগড়া থানার ওসি মো. আব্দুর রহমান বলেন, “জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি জব্দ করে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যৌথবাহিনীর এমন অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন