
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ, খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) ও লোগাং জোন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) পানছড়ি ব্যাটালিয়ন ও লোগাং জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যনগর নুরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসাটির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রীর হাতে পাঠ্যবই, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
এ কর্মসূচির আওতায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, আশপাশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সহায়তা প্রদান করা হয়। পূর্ব দমদম মদিনাতুল উলুম ইসলামিক একাডেমি মাদ্রাসা, হিফজখানা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য কোরআন ও হাদিস সংরক্ষণের র্যাক সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা)। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা বিস্তার ও মানবিক সহায়তা বিজিবির একটি নিয়মিত কার্যক্রম। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বিজিবি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতেও শিক্ষা উপকরণ, খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতাসহ এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।
এর আগে গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) লোগাং বিজিবি ক্যাম্পের উদ্যোগে দায়িত্বপূর্ণ তারাবন এলাকায় স্থানীয় দরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থ সাতটি পাহাড়ি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়। শীতপ্রবণ পার্বত্য এলাকায় এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন। তারা বলেন, দুর্গম এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিজিবি ও লোগাং জোনের এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চললে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, মানবিকতা ও সামাজিক উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
মন্তব্য করুন