
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জমিতে কাজ শেষে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে বজ্রপাতে আবুল খায়ের (৬২) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে পৌরসভার সোনাকাটিয়া গ্রামের উত্তর পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল খায়ের ওই গ্রামের মৃত জন্তুর আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রোববার দুপুরে কৃষিকাজ শেষ করে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যান আবুল খায়ের। এ সময় হঠাৎ করে আকাশে মেঘ জমে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই পুকুরঘাটে অবস্থানকালে আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান। তবে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, বজ্রপাতে আহত অবস্থায় ওই কৃষককে হাসপাতালে আনা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছিল। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আবুল খায়ের ছিলেন পরিশ্রমী ও সৎ একজন কৃষক। কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করেই তার সংসার চলত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, দেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় খোলা মাঠ, পুকুর বা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থানকালে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই আবহাওয়া খারাপ হলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল বলছেন, বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন যথাযথ সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। খোলা জায়গা, গাছের নিচে কিংবা জলাশয়ে অবস্থান না করা, বজ্রপাতের সময় ঘরে অবস্থান করা এবং নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার মতো বিষয়গুলো মেনে চললে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন