
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জেলা সদরের মডেল থানাধীন ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কোডিন ফসফেটযুক্ত ৩০ বোতল এসকাফ (Eskuf) সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে মাদক হিসেবে অপব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে ৩০ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম আলী হাসান (১৯), যিনি হায়দার নামেও পরিচিত। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার নুয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম আলী আমজদ খান এবং মাতার নাম জাহানারা বেগম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এসব মাদক সংগ্রহ ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত এসকাফ সিরাপগুলো মূলত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও এতে থাকা কোডিন ফসফেটের কারণে এটি মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায়ই ভারতীয় উৎসের এসব সিরাপ পাচারের ঘটনা ঘটে। এ ধরনের মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ডিএনসি আরও জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের মাদক ব্যবসা ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে মাদকবিরোধী এই লড়াইয়ে সবাই সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন