
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চুরি হওয়া তিনটি ৪০ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে এবং চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ইউনাইটেড স্ট্যান্ডার্ড স্কুলে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটি চলাকালে গত ১৭ মার্চ রাতে অজ্ঞাতনামা চোরেরা বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে ঢুকে বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে। এ সময় তারা অফিস কক্ষের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল তিনটি ৪০ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি, একটি আইপিএস ব্যাটারি, একটি আইপিএস মেশিনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজউদ্দিন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ অধিকারীর ওপর।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ মার্চ রাতে শহরের বাতেন খাঁ মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মো. আব্দুল্লাহ (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শহরের আরামবাগ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া তিনটি স্মার্ট টিভি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগে রহিম আলী (৪৫) নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর বানিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং রহিম আলী আরামবাগ মাদ্রাসাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “চুরির ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযানে নেমে চোরকে গ্রেফতার এবং চুরিকৃত টেলিভিশনগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পলাশ অধিকারী জানান, “চুরিকৃত তিনটি টেলিভিশন ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ে চুরিকৃত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং অপরাধ দমনে এমন তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন