বান্দরবানের লামা উপজেলার বছাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ত্রিপুরা শিশুশিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক সংঘাতে রূপ নিতে পারত বলে আশঙ্কা করেছিলেন স্থানীয়রা।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বছাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলম প্রথম শ্রেণির ছাত্রী রেশমি ত্রিপুরা-কে পড়া না পারায় মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের সময় শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি বন্ধ করে শিশুটির মুখ চেপে ধরা হয়। এতে সে কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায় ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষক ফরিদুল আলমকে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঙালি ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর গাজালিয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে পাঠানো একটি টহল দল। দলটির নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন আসলাম। সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেনাবাহিনী, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে স্থানীয়দের দাবির মুখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অন্যত্র বদলির আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে শিশুটির পরিবারকে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গাজালিয়া এলাকার ত্রিপুরা পাড়ায় গিয়ে রেশমি ত্রিপুরা-র পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তারা স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে লামা ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
মন্তব্য করুন