
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণপদ আর্চয্য (৭৩) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত কৃষ্ণপদ আর্চয্য ওই গ্রামের মৃত সন্তোষ আর্চয্যের ছেলে এবং একজন সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় কৃষ্ণপদ আর্চয্য কালিয়া বাজার থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পথে ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে পৌঁছালে আশিকুর রহমান সুমন, আকিবুর রহমান মিলন এবং মাহিদুল শেখ নামে তিন যুবক অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় কৃষ্ণপদ আর্চয্যকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত কৃষ্ণপদ আর্চয্য জানান, মনশা মন্দিরের জমি এবং তার পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশী ফজর শেখ ও ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ সংক্রান্ত একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার দাবি, ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন