
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এ সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল অভিযোগ করেছে, গত প্রশাসন জামায়াত ও শিবিরের ক্যাডারদের জন্য স্বেচ্ছায় নিয়োগ দিয়েছে। তবে অধ্যাপক সালেহ হাসান নিজে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “দৈনিক মজুরি ভিত্তিক দুই শতাধিক কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছে। আমরা জানতে চাইছি, কোন প্রক্রিয়ায় এরা নিয়োগ পেয়েছে। তথ্যগুলো উন্মুক্ত থাকা উচিত। এছাড়া ফটোকার্ড ব্যবহার করে কিছু অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কিছু কথা আমি ভিসি হওয়ার আগে বলেছিলাম, সেগুলো এখন সামনে আনা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অপতথ্য।”
তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে ১৫৪ জন। মেডিকেল সেন্টারে অ্যাডহক ভিত্তিতে পাঁচজন ডাক্তার ও আইসিটি সেন্টারে দুজন প্রোগ্রামার নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির দৈনিক ৭৫০ টাকা মজুরি ভিত্তিক দুই শতাধিক কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন।
উপজেলা শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী অভিযোগ করেন, “বিগত সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও জামায়াতীকরণের শিকার হয়েছে। শিবিরের চিহ্নিত ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এতে মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা চাই, নতুন উপাচার্য এসব নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তদন্ত করুন।”
অভিযোগটি নিয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নকীব বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। বিএনপি-জামায়াতসহ অনেকের নানা তদবির ছিল, কিন্তু সেগুলো পাত্তা দেওয়া হয়নি। যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তদন্ত সাপেক্ষে তা উদঘাটন করা হোক।”
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। তবে শিক্ষার্থী ও কর্মচারী সম্প্রদায়ের দাবি, সকল নিয়োগ প্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও আইনমাফিক হওয়া উচিত। এতে প্রতিষ্ঠানেই ন্যায্যতা বজায় থাকে এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ প্রদান সম্ভব হয়।
তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো স্বচ্ছতা না থাকলে তা শিক্ষার মান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রসংগঠনগুলো আশা করছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সকল অপতথ্য দূরীকরণ করা হবে। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন