
মাগুরা জেলায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জরুরি চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর করতে তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৯৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, যিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে চিকিৎসা সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তিনি জেলার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং জনসেবায় দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবাদান সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন নাহার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মাগুরা শাখার সভাপতি ডা. আলিমুজ্জামান। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়। তারা আরও উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব অনেক সময় সেবাদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যা এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকাংশে দূর হবে।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম, যা রোগীদের প্রাথমিক ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকলে মাগুরা জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে, যা সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন