
নড়াইল সদর উপজেলায় মর্মান্তিক এক ঘটনায় তিন মাস বয়সী কন্যাশিশু তাবাসসুমকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আরিফা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আরিফা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের তথ্যমতে, নিহত শিশু তাবাসসুম নড়াইল সদর উপজেলার আড়ংগাছা গ্রামের প্রবাসী মানিক চান মোল্যার মেয়ে। প্রায় দেড় বছর আগে আলোকদিয়া গ্রামের খায়রুল বিশ্বাসের মেয়ে আরিফা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আরিফা স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তবে কয়েকদিন আগে তিনি তার শিশু কন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়ি আলোকদিয়া গ্রামে বেড়াতে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করেই এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে আরিফা বেগম তার শিশু কন্যাকে হত্যা করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ১১টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত তাবাসসুমের চাচা শামিম মোল্যা জানান, “গতকাল আমার ভাই কুয়েত থেকে ফোন দিয়ে বলেছিল আজ তারা বাড়িতে আসবে। কিন্তু ভোরে আলোকদিয়া থেকে ফোন পেয়ে জানতে পারি, আমার ভাতিজিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তার গলার দুই পাশে দাগ রয়েছে, যা খুবই মর্মান্তিক।”
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, “ঘটনার পরপরই শিশুটির মা আরিফা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এমন নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণ এই ঘটনার পেছনে রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
মন্তব্য করুন