বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোর রাতে দরগা বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন ‘তালুকদার ভিলা’ নামের একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মানিক চন্দ্র শীল (৬০) ও তার ছেলে মৃদুল চন্দ্র শীল (২৫) গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির দরজা-জানালা উড়ে গেছে এবং ভেতরের আসবাবপত্র চুরমার হয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
আহত মৃদুল চন্দ্র শীলের বরাতে ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার রাতে তারা বাসায় একটি নতুন গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে আসেন। সংযোগ দেওয়ার সময় সিলিন্ডার থেকে ‘হিসহিস’ শব্দ হওয়ায় মানিক চন্দ্র শীল সেটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্ভবত লিকেজ বন্ধ না হওয়ায় সারা রাত বদ্ধ ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। ভোর ৬টার দিকে রান্না করার জন্য দিয়াশলাই জ্বালাতেই ঘরে জমে থাকা গ্যাসে মুহূর্তেই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা দ্রুত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মানিক চন্দ্র শীলের শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। ছেলে মৃদুলের শরীরের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে বরিশাল মেডিকেলেই চিকিৎসাধীন।
বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, তালুকদার ভিলার নিচতলার তিনটি কক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দ্বিতীয় তলা এবং পাশের একটি ভবনেরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার দুটি অক্ষত পাওয়া গেছে।সিলিন্ডার না ফেটে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায় এলাকাবাসীর মধ্যে রহস্য ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন বলেন, “বদ্ধ ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে আগুনের সংস্পর্শ পেলে অক্সিজেনের দুর্বল জায়গা (যেমন জানালা বা দরজা) দিয়ে তা প্রচণ্ড চাপে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সিলিন্ডার অক্ষত থাকলেও জমে থাকা গ্যাস এই ধরণের শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে সিআইডি (CID) টিমকে আলামত সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো নাশকতার আলামত রয়েছে, তা তদন্তের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে শহর এলাকায় বদ্ধ ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। কোনো প্রকার গন্ধ পাওয়া গেলে দ্রুত জানালা-দরজা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন