বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবির সূত্র ধরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজে এ অনিয়মের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অর্থায়নে নির্মিতব্য ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের ব্রিজটিতে নির্মাণ মানদণ্ড উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের ঢালাই কাজে নির্ধারিত রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা কমিয়ে প্রায় ৩ ইঞ্চিতে নামিয়ে আনা হয়। সিমেন্টের মিশ্রণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা জানান, রত্নপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব পেলেও তিনি ইচ্ছামতো কাজ পরিচালনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, ব্রিজ নির্মাণের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
তারা আরও বলেন, ঢালাইয়ের সময় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কোনো তদারকি ছিল না। বাঁশ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানালে ঠিকাদার সামান্য কিছু রড ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঢালাই কাজে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ব্রিজের বাইরের অংশে কিছু বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে হয়েছে।
এ বিষয়ে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ব্রিজ নির্মাণে প্রথমে দেড় লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ঢালাইয়ের জন্য আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ঢালাইয়ের সময় তাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাদের না জানিয়েই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
এদিকে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এসেছে। তিনি ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজ বন্ধ করে টেকসই ব্রিজ নির্মাণ নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন