আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে সঠিক ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোরবানির পশু জবাই এবং পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বিষয়ে একটি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে মঠবাড়িয়ায়। শনিবার (২৩ মে) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ প্রশিক্ষণে কওমী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার। তিনি প্রশিক্ষণে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণে বিশেষজ্ঞরা কোরবানির পশু জবাইয়ের ইসলামী বিধান, স্বাস্থ্যসম্মত জবাই পদ্ধতি, চামড়া ছাড়ানোর সঠিক কৌশল এবং চামড়ার গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে সংরক্ষণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক হাতে-কলমে শেখান। পাশাপাশি চামড়া নষ্ট না হয়ে দীর্ঘ সময় ভালো রাখার জন্য লবণ প্রয়োগের সঠিক নিয়ম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সংগ্রহের পর বাজারজাতকরণ পর্যন্ত করণীয় বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সঠিক সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন কওমী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আকলিমা আক্তার বলেন, “কোরবানির পশুর চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সঠিক নিয়মে জবাই ও সংরক্ষণ করা গেলে এর মান অক্ষুণ্ন থাকে এবং এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারে। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই এবং চামড়া সংরক্ষণ করা হলে পরিবেশ ও অর্থনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ মাঠপর্যায়ে বাস্তব জ্ঞান বৃদ্ধি করে এবং কোরবানির মৌসুমে চামড়ার অপচয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও প্রশিক্ষণ আয়োজনের দাবি জানান তারা।
মন্তব্য করুন