পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়, যা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা আলাল মিয়া, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম এরশাদ, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা তাইজ উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
চাল বিতরণ কার্যক্রমে শতাধিক দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে সরকারি চাল প্রদান করা হয়। আধুনিক ইলেকট্রনিক মিটার বা ডিজিটাল ওজন মেশিনের মাধ্যমে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করে চাল বিতরণ করা হয়, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি না থাকে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিয়মিতভাবে যে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, তা যথাযথভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে কোনো দরিদ্র পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ তৈরি করে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
চাল বিতরণ শেষে উপকারভোগী পরিবারগুলো সরকারের এই উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, ঈদের আগে এই সহায়তা তাদের পরিবারে স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং কিছুটা হলেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এ কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যাতে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী আরও বেশি উপকৃত হতে পারে।
মন্তব্য করুন