কুড়িগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) গ্রাসরুট ফুটবল ডে ২০২৬। তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের বিকাশ, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় আগ্রহ সৃষ্টি এবং নতুন প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্য নিয়ে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. নাজির হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাশেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসভীর উল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বেবু এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম। তারা বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী দল গঠন সম্ভব নয়। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ ফুটবল তারকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিনব্যাপী আয়োজিত গ্রাসরুট ফুটবল ডে’তে কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলার ক্ষুদে ফুটবলাররা অংশগ্রহণ করে। মোট ১৬৫ জন কিশোর ফুটবলার বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম, অনুশীলন সেশন, দক্ষতা প্রদর্শনী এবং প্রীতি ম্যাচে অংশ নেয়। খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের শারীরিক সক্ষমতা, দলগত মানসিকতা ও মৌলিক ফুটবল কৌশল উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, এএফসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বছর গ্রাসরুট পর্যায়ে ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে করে গ্রামের ও প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা যায় এবং তাদের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা সম্ভব হয়।
দিনের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে ফুটবলারদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তারা যেমন শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়, তেমনি ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কুড়িগ্রামের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। এটি স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং নতুন প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করবে। অভিভাবকরাও এ ধরনের কার্যক্রমকে স্বাগত জানান এবং নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।
আয়োজন শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা ভবিষ্যতে ভালো ফুটবলার হয়ে দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন ব্যক্ত করে।
মন্তব্য করুন