গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ ও গরম বাতাসে যেন আকাশ থেকেই আগুন ঝরছে—এমন অনুভূতি সাধারণ মানুষের মধ্যে। সকাল গড়াতেই সূর্যের তীব্রতা বাড়ায় রাস্তাঘাট, বাজার, শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক ও কৃষিশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। জীবিকার তাগিদে অনেকেই মাথায় গামছা, ছাতা কিংবা কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে রাস্তায় নামলেও প্রচণ্ড গরমে তারা দুর্বল হয়ে পড়ছেন।
চন্দ্রা ত্রিমোড়, হরতকিতলা, আমতলা, ডাইনকিনি, মাইওয়ান মোড়, চারতলা, মধ্যপাড়া, মৌচাক, সফিপুর ও কালিয়াকৈর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দুপুরের পর স্বাভাবিক চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদের কারণে পিচঢালা সড়ক পর্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে রাতেও গরমের তীব্রতা কমছে না। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে জ্বর, পানিশূন্যতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও গরমজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ছে, তাই অপ্রয়োজনে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও হালকা খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গরমের কারণে কর্মজীবী মানুষদের কাজের পরিবেশও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে কাজের ফাঁকে বারবার পানি পান করছেন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
এদিকে তাপদাহের মধ্যে বাজারগুলোতে ঠান্ডা পানীয়, আখের রস, লেবুর শরবত ও তরমুজের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। রাস্তার পাশে অস্থায়ী শরবতের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা যাচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, গাছপালা কমে যাওয়া ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে প্রতি বছরই তাপমাত্রা বাড়ছে। তারা পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে তীব্র এই দাবদাহে কালিয়াকৈরের সাধারণ মানুষ এখন একটুখানি বৃষ্টি ও স্বস্তির অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।
মন্তব্য করুন