গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। সার্ভার জটিলতা, রিচার্জের পর কোড না পাওয়া, মিটার বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকা, লোড সীমাবদ্ধতা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জরুরি সেবার অভাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা এ সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করলেও অনেক সময় মিটারে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ২০ ডিজিটের কোড পাওয়া যায় না। ফলে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকদের বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হয়।
কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, “৫০০ টাকা রিচার্জ করলেও কোড পাইনি। শুক্রবার ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় দুই দিন বিদ্যুৎ ছাড়াই থাকতে হয়েছে। গরমে শিশুদের কষ্ট হয়েছে, অথচ অভিযোগ জানানোরও কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না।”
মিটার বিকল হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড়ইবাড়ি ইউনিয়নের গৃহিণী রোকেয়া বেগম জানান, মিটার নষ্ট হওয়ার পর একাধিকবার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলেও কয়েকদিন পর্যন্ত কোনো কর্মী ঘটনাস্থলে আসেননি। এ সময় ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সফিপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সুমন মিয়া। তিনি বলেন, “ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ার পর ছুটির দিনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে না পারায় ফ্রিজে থাকা আইসক্রিম ও কোমল পানীয় নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
গ্রাহকদের আরেকটি বড় অভিযোগ হলো প্রিপেইড মিটারের লোড সীমাবদ্ধতা। অনেকেই জানান, কয়েকটি ফ্যান, লাইট বা একটি রাইস কুকার চালালেই মিটার ওভারলোড দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে অফিসে আবেদন করে লোড বাড়ানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
এদিকে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাতে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, আবার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে অতিরিক্ত খরচে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী সাহারুল ইসলাম বলেন, সার্ভারে অতিরিক্ত চাপের কারণে মাঝে মাঝে রিচার্জ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়ে। বিষয়টি সমাধানে আরইবি কাজ করছে। তিনি জানান, মিটার বিকল হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও জনবল সংকটের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত জটিল সমস্যা সমাধানে একটি বিশেষ যোগাযোগ নম্বরও চালু রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও জরুরি সেবা চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে সার্ভার সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত মিটার পরিবর্তন এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনগণের প্রত্যাশা, আধুনিক প্রযুক্তির নামে নতুন ভোগান্তি নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।প্রতিবেদন: শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
মন্তব্য করুন