হবিগঞ্জের সদর উপজেলার কাশীপুর গ্রামে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে ফুটবল খেলার হার-জিত ও ট্রলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে সদর উপজেলার লোকড়া ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে কাশীপুর গ্রামে স্থানীয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় আর্জেন্টিনা সমর্থিত দল ২-০ গোলে ব্রাজিল সমর্থিত দলকে পরাজিত করে। খেলা শেষে জয়-পরাজয় এবং একে অপরকে নিয়ে ট্রল করাকে কেন্দ্র করে মাঠেই দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সেসময় স্থানীয় মুরুব্বিরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং উভয় পক্ষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। তবে রাতভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জেরে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন পুনরায় মুখোমুখি হলে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শত শত সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফুটবল খেলা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কাশীপুর গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন