ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ ১৯৯তম পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত। এ উপলক্ষে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে পুরো শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টায় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাজহারুল ইসলাম, সোহানা নাসরিনসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লি শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে অংশ নিতে আসেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জামাত সম্পন্নে জেলা পুলিশ শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে।”
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকাকে কয়েকটি নিরাপত্তা সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠের ভেতর ও বাইরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেও আকাশপথে নজরদারি চালানো হবে।
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে শহরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যানবাহন নির্ধারিত স্থানে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো সামগ্রী—যেমন ব্যাগ, ছাতা, লাঠি কিংবা ধাতব বস্তু—সঙ্গে না আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা তল্লাশি নির্বিঘ্ন করতে মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিং শেষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত সম্পন্নে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
মন্তব্য করুন