সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে যখন শিশু রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো, ঠিক তখনই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে একযোগে ৫৪ জন নার্সের বদলিতে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। এতে জনবল সংকটে থাকা জেলার স্বাস্থ্যসেবা আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৫৪ জন নার্সকে পদায়ন করা হয়। কিন্তু সাত মাসের মাথায় চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর তাদের একযোগে বদলির আদেশ জারি করে এবং ২৬ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়।
এই বদলি প্রক্রিয়া ঘিরে প্রশাসনিক নিয়ম মানা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। পার্বত্য অঞ্চলে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের বদলির ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, সিভিল সার্জনের সুপারিশ এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে জেলার ৩৪১টি অনুমোদিত নার্স পদের বিপরীতে ৬৯টি পদ শূন্য ছিল। নতুন করে ৫৪ জন নার্স চলে গেলে শূন্যপদ বেড়ে দাঁড়াবে ১২৩টিতে। শুধু খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালেই ১৩৫টি পদের মধ্যে ২০টি পদ ইতোমধ্যেই খালি রয়েছে।
হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শিশু রোগীর চাপও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিতে নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় এই সংকট স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, “নার্সসহ বিভিন্ন সেক্টরে জনবল সংকট রয়েছে। একসঙ্গে এতজনের বদলি হলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা বলেন, “বর্তমান সংকটে সীমিত জনবল দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
এদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সময় এই বদলি সিদ্ধান্ত পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবাকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন