কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবান অঞ্চলকে ‘Bay of Bengal International Green Tourism Capital’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। দেশের পর্যটন খাত ও অর্থনীতিতে টেকসই পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে প্রণীত এই উচ্চাভিলাষী প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।
“বিদেশে অর্থ পাচার নয়, দেশে বিনিয়োগ”—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে গ্রীন পলিসি মুভমেন্টের আহ্বায়ক মোঃ মহিউদ্দিন (বন্ধু) এ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে কক্সবাজার, আলীকদম ও বান্দরবানকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক উন্নয়ন কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্বাহী উপদেষ্টা এবং সেনাপ্রধান পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের অন্তর্ভুক্ত করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সমন্বয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাস্টারপ্ল্যানে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার–আলীকদম–বান্দরবান–চট্টগ্রাম রেলপথ নির্মাণ, ছয় লেন সড়ক এবং আধুনিক নৌপথ সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম, ‘গ্রীন সিটি’ ও ‘স্মার্ট সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, মিডিয়া সেন্টার, বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামিক ও মহিলা গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, ‘এক উপজেলা এক পণ্য’ কর্মসূচি এবং ব্লু ইকোনমি ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
উদ্যোক্তা মোঃ মহিউদ্দিন (বন্ধু) বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে অর্থ পাচার রোধের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে স্মারকলিপিটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন