দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় খরিপ-১ মৌসুমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে মুগডাল বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার নির্বাচিত প্রান্তিক কৃষকদের হাতে মুগডালের উন্নতমানের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ আরজেনা বেগম, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ মাসুদ রানা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ মেজবাহুর রহমান, সমাজসেবা অফিসার মোঃ মাসুদ রানা, হিলি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানীসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও কৃষকরা।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও ভর্তুকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে তারা সময়মতো চাষাবাদ করে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো পরামর্শের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ আরজেনা বেগম জানান, মুগডাল চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় হাকিমপুর উপজেলার ২০ জন প্রান্তিক কৃষককে প্রতি বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি মুগডাল বীজ, ৫ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) এবং ১০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের যেকোনো সমস্যার সমাধানে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উপকারভোগী কৃষকরা সরকারের এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, সময়মতো বীজ ও সার পাওয়ায় তাদের চাষাবাদ সহজ হবে এবং উৎপাদন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন