নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে চুরি হওয়া স্বনামধন্য আরএফএল কোম্পানির প্রায় ২৮ লাখ টাকার মালামালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখ টাকার পণ্য উদ্ধার করা হলেও বাকি মালামাল উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল আরএফএল কোম্পানির মালামাল বোঝাই একটি ট্রাক নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ট্রাকটি গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি ও মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানা পুলিশ আরএফএল-এর আইটি টিমের সহায়তায় জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করে। এর ভিত্তিতে ২২ এপ্রিল বগুড়ার নন্দীগ্রাম এলাকা থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়, তবে তখন সেটি খালি অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরি হওয়া মালামালের অবস্থান গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ২৪ এপ্রিল পলাশবাড়ী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত গুদাম থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করে। একই সময়ে সাদুল্লাপুর উপজেলায় পৃথক অভিযানে আরও প্রায় ৮ লাখ টাকার পণ্য উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, স্থানীয় এক ব্যক্তি দাবি করেন, তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কিছু ব্যক্তি তার গুদামে এসব মালামাল রেখে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে তারা দ্রুত সেগুলো সরিয়ে নেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২৬ এপ্রিল রাতে সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মহিপুর বাজার ও ধারাই গ্রামে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় আরও প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রামপ্রসাদ চক্রবর্তী জানান, সাদুল্লাপুরের ইদিলপুর ইউনিয়ন থেকে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ারে আলম খান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাফিজুর রহমান জানান, রূপগঞ্জ থানা পুলিশের অনুরোধে তারা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন এবং উদ্ধারকৃত মালামালসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা রোধে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
মন্তব্য করুন