জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান
১২ অগাস্ট ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আখেরি চাহার শোম্বা: ঐতিহ্য, প্রচলিত আমল ও শরিয়তের মাপকাঠি

সফর মাসের শেষ বুধবার। উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে পরিচিত একটি আবেগঘন নাম—‘আখেরি চাহার শোম্বা’। ফারসি শব্দ ‘আখেরি’ অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ সফর মাসের শেষ বুধবারকে বলা হয় আখেরি চাহার শোম্বা।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে দিনটিকে ঘিরে নানা ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন প্রচলিত রয়েছে। কোথাও কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়, কোথাও দরিদ্রদের খাবার দেওয়া হয়, আবার কোথাও বিশেষ নামাজ, রোজা বা নির্দিষ্ট কিছু আমলের প্রচলন দেখা যায়।

তবে আখেরি চাহার শোম্বাকে ঘিরে প্রচলিত সব আমল ও বিশ্বাসের শরিয়তি ভিত্তি এক নয়। কোনো একটি বিষয় দীর্ঘদিন সমাজে প্রচলিত থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরিয়তের বিধান হয়ে যায় না। আবার কোনো নির্দিষ্ট দিনের বিশেষ আমল প্রমাণিত না থাকলেও সাধারণ নেক আমল—যেমন দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া—নিজ নিজ জায়গায় বৈধ হতে পারে।

তাই আখেরি চাহার শোম্বাকে বুঝতে হলে ইতিহাস, সামাজিক ঐতিহ্য ও শরিয়তের বিধান—এই তিনটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আখেরি চাহার শোম্বার প্রচলিত ইতিহাস

আখেরি চাহার শোম্বার সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেষ অসুস্থতার একটি ঘটনা প্রচলিতভাবে যুক্ত করা হয়। কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়, সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি অসুস্থতার মধ্যে সাময়িকভাবে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। এই বর্ণনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মুসলিম সমাজে দিনটি স্মরণ ও আনন্দের সঙ্গে পালনের রীতি গড়ে ওঠে।

তবে নির্ভরযোগ্য হাদিসের আলোকে সফর মাসের শেষ বুধবারকে আলাদা একটি শরিয়তি দিবস হিসেবে নির্ধারণ করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। মহানবী (সা.)-এর শেষ অসুস্থতা ও জীবনের শেষ সময়ের ঘটনাগুলো সহিহ হাদিসে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হলেও সফরের শেষ বুধবারকে বিশেষ ইবাদতের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার কোনো স্পষ্ট নববী নির্দেশ পাওয়া যায় না।

এখানেই ইতিহাস ও শরিয়তের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোনো ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় হতে পারে, কিন্তু সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট ইবাদত শরিয়তের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোরআন ও সুন্নাহর দলিল প্রয়োজন।

বিশেষ চার রাকাত নামাজের ভিত্তি কতটুকু?

আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো বিশেষ চার রাকাত নফল নামাজ। বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে, এদিন নির্দিষ্ট সময়ে চার রাকাত নামাজ পড়তে হবে এবং প্রতিটি রাকাতে নির্দিষ্ট সংখ্যায় নির্দিষ্ট সূরা পড়তে হবে। এরপর বিশেষ দোয়া করলে বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়—এমন বিশ্বাসও কোথাও কোথাও প্রচলিত।

কিন্তু এ ধরনের নির্দিষ্ট নামাজের বিষয়ে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর সুস্পষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায় না। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি—‘আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল-বুহুসিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা’—আখেরি চাহার শোম্বার বিশেষ নামাজ সম্পর্কে জানিয়েছে, কোরআন ও সুন্নাহতে এর কোনো ভিত্তি জানা নেই এবং সালাফদের কাছ থেকেও এ ধরনের আমল প্রমাণিত নয়। তাদের ফতোয়া সংকলনে বিষয়টিকে ধর্মীয়ভাবে ভিত্তিহীন সংযোজন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি—নফল নামাজ নিজেই ইসলামে বৈধ ও সওয়াবের আমল। একজন মুসলমান যেকোনো দিন নফল নামাজ পড়তে পারেন। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট দিনকে নির্দিষ্ট রাকাত, নির্দিষ্ট সূরা ও নির্দিষ্ট ফজিলতের সঙ্গে শরিয়ত নির্ধারিতভাবে যুক্ত করার জন্য আলাদা দলিল প্রয়োজন।

অর্থাৎ ‘নফল নামাজ পড়া’ এবং ‘সফর মাসের শেষ বুধবারের বিশেষ নফল নামাজ’—এ দুটি বিষয় এক নয়।

বিশেষ রোজার বিষয়েও একই প্রশ্ন

আখেরি চাহার শোম্বাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও বিশেষ রোজা রাখার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এ দিনটিকে আলাদাভাবে বিশেষ ফজিলতের রোজার দিন হিসেবে নির্ধারণ করার নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায় না।

ইসলামওয়েবের একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, সফর মাসের শেষ বুধবারকে আলাদাভাবে রোজা বা বিশেষ নফল ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করার শরিয়তি প্রমাণ নেই।

আরো পড়ুন...  ছয় মাসে কুরআনের হাফেজ ১০ বছরের সিদ্দি

তবে কেউ যদি সাধারণ নফল রোজা রাখেন, সেটিকে ব্যক্তিগত নফল ইবাদত হিসেবে দেখা হবে। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন কোনো নির্দিষ্ট দিনকে শরিয়তের পক্ষ থেকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ রোজার দিন হিসেবে দাবি করা হয়, অথচ তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।

সফর মাস কি অমঙ্গলের?

আখেরি চাহার শোম্বা নিয়ে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সফর মাসকে ঘিরে প্রচলিত কুসংস্কার।

ইসলামে সফর মাসকে অমঙ্গল বা দুর্ভাগ্যের মাস হিসেবে বিশ্বাস করার ভিত্তি নেই। জাহেলি যুগে সময়, মাস বা বিভিন্ন ঘটনাকে অশুভ মনে করার যে প্রবণতা ছিল, ইসলাম তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

তাই সফর মাসের শেষ বুধবারকে বিশেষভাবে বিপদের দিন মনে করা, এদিন বিপুলসংখ্যক বিপদ নেমে আসে—এমন বিশ্বাস করা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু আমল না করলে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না—এ ধরনের ধারণার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, কোনো দিনকে অমঙ্গলময় মনে না করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, জিকির করা ও দান-সদকা করা সবসময়ই নেক আমল।

কোরআন তিলাওয়াত ও দান-সদকা করা যাবে কি?

আখেরি চাহার শোম্বার দিন কেউ কোরআন তিলাওয়াত করলে, দরুদ পড়লে, আল্লাহর কাছে দোয়া করলে বা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে তা নিজেই নিষিদ্ধ হয়ে যায় না।

কারণ এসব আমল ইসলামে স্বতন্ত্রভাবে বৈধ।

তবে পার্থক্য হলো—কেউ যদি বলেন, ‘সফরের শেষ বুধবার হওয়ায় এই দিন কোরআন পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে’ অথবা ‘এই দিনের দান-সদকা বিশেষভাবে বিপদ দূর করে’—তাহলে সেই দাবির পক্ষে দলিল প্রয়োজন।

অর্থাৎ সাধারণ নেক আমলকে সাধারণ নেক আমল হিসেবেই করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সময় বা পদ্ধতির সঙ্গে শরিয়ত নির্ধারিত বিশেষত্ব যুক্ত করতে হলে প্রমাণ থাকা জরুরি।

প্রচলিত কিছু রীতির বিষয়ে সতর্কতা

আখেরি চাহার শোম্বাকে ঘিরে বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কিছু রীতি প্রচলিত রয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট আয়াত লিখে পানিতে ভিজিয়ে পান করা হয়, কোথাও নির্দিষ্ট সংখ্যায় বিশেষ দোয়া বা ওজিফা পাঠ করা হয়। এসবের কোনো কোনোটি লোকাচার ও ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

কিন্তু কোনো আমলকে শরিয়তের নির্ধারিত আমল হিসেবে গ্রহণ করার আগে তার উৎস ও দলিল যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে মহানবী (সা.), সাহাবায়ে কেরাম বা চার ইমামের নামে কোনো বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো আলেম বা ইমামের নামে বক্তব্য প্রচারের আগে মূল কিতাব, সূত্র ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট যাচাই করা উচিত।

চার ইমামের নামে অপ্রমাণিত বক্তব্য নয়

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর নামে আখেরি চাহার শোম্বার বিশেষ নামাজ বা বিশেষ আমল সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

কিন্তু কোনো বক্তব্যের নির্ভরযোগ্য কিতাবি সূত্র নিশ্চিত না করে তা তাঁদের নামে প্রচার করা ঠিক নয়।

চার ইমামের ফিকহি ঐতিহ্যের একটি মৌলিক শিক্ষা হলো—শরিয়তের বিধান দলিলের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। তাই তাঁদের নামে অপ্রমাণিত বক্তব্য প্রচার না করে তাঁদের প্রামাণ্য ফিকহি গ্রন্থ ও উসুল থেকে শিক্ষা নেওয়াই অধিক নিরাপদ।

এ বিষয়ে হানাফি ফিকহের একটি প্রশ্নোত্তর সূত্রেও আখেরি চাহার শোম্বার বিশেষ চার রাকাত নামাজের বিষয়ে আলোচনা পাওয়া যায়।

বিদআতের আলোচনায় ভারসাম্য জরুরি

আখেরি চাহার শোম্বার সঙ্গে ‘বিদআত’ শব্দটিও প্রায়ই আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে কথা বলার সময় দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা জরুরি।

কোনো সাধারণ বৈধ কাজ—যেমন দান, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ বা দোয়া—শুধু একটি দিনে করা হয়েছে বলেই সেটিকে নিষিদ্ধ বলা যায় না। বরং প্রশ্ন হলো, সেই কাজটিকে কি এমনভাবে ধর্মীয় বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যার জন্য শরিয়তি দলিল নেই?

আরো পড়ুন...  নামাজ ছাড়লেই কী ভয়াবহ পরিণতি?

যেমন দান-সদকা ইসলামে বৈধ। কিন্তু যদি বলা হয়, ‘সফরের শেষ বুধবার দান করতেই হবে এবং এ দিনের দানের বিশেষ শরিয়তি ফজিলত রয়েছে’, তাহলে সেই দাবির পক্ষে দলিল প্রয়োজন।

একইভাবে নফল নামাজ বৈধ। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট বুধবারের জন্য নির্দিষ্ট রাকাত ও নির্দিষ্ট সূরার বিশেষ নামাজকে সুন্নাহ হিসেবে প্রচার করতে হলে প্রমাণ প্রয়োজন।

এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি।

ঐতিহ্য ও শরিয়ত—দুটিকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন

আখেরি চাহার শোম্বা উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে একটি দীর্ঘদিনের পরিচিত ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি। মানুষের আবেগ, সামাজিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে দিনটি জড়িয়ে আছে।

কিন্তু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আর শরিয়তের বিধান এক জিনিস নয়।

কোনো সামাজিক রীতি যদি ইসলামের মৌলিক আকিদা ও বিধানের বিরোধী না হয়, সেটিকে সাংস্কৃতিক রীতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু সেই রীতিকে শরিয়তের নির্ধারিত ইবাদত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আগে অবশ্যই কোরআন ও সুন্নাহর প্রমাণ দেখতে হবে।

এ কারণে আখেরি চাহার শোম্বাকে ঘিরে মানুষের আবেগকে অসম্মান না করে প্রচলিত আমলগুলোর শরিয়তি ভিত্তি যাচাই করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে দিনটি কাটানো যেতে পারে?

সফর মাসের শেষ বুধবারকে শরিয়ত নির্ধারিত বিশেষ ঈদ বা উৎসব হিসেবে বিবেচনা না করেও একজন মুসলমান স্বাভাবিকভাবে নেক আমল করতে পারেন।

কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও জিকির, আল্লাহর কাছে দোয়া, নফল নামাজ, নফল রোজা, দান-সদকা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব আমল ইসলামে স্বতন্ত্রভাবে বৈধ।

তবে এগুলোর সঙ্গে এমন কোনো বিশেষ ফজিলত বা বাধ্যতামূলক ধর্মীয় মর্যাদা যুক্ত করা উচিত নয়, যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।

একইভাবে সফর মাসকে অমঙ্গল মনে করা বা আখেরি চাহার শোম্বাকে বিশেষ বিপদের দিন হিসেবে বিশ্বাস করাও পরিহার করা উচিত।

ভালোবাসার সবচেয়ে নিরাপদ পথ

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর জীবন, চরিত্র ও সুন্নাহ স্মরণ করা এবং তাঁর দেখানো পথে চলাই সেই ভালোবাসার বাস্তব প্রকাশ।

তাঁর নামে এমন কোনো আমল বা ফজিলত প্রচার না করাই উত্তম, যার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে তাঁর প্রতি সত্যনিষ্ঠতাও জড়িত।

আখেরি চাহার শোম্বার ক্ষেত্রেও তাই আবেগের পাশাপাশি দলিলের গুরুত্বকে সামনে রাখা প্রয়োজন।

দিনটি মুসলিম সমাজের একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি হিসেবে পরিচিত থাকতে পারে। মানুষ এ উপলক্ষে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারে, কোরআন তিলাওয়াত করতে পারে, দরুদ পড়তে পারে, দান-সদকা করতে পারে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

কিন্তু নির্দিষ্ট নামাজ, নির্দিষ্ট রোজা, নির্দিষ্ট সূরা বা নির্দিষ্ট ফজিলতকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে প্রচার করার আগে অবশ্যই সহিহ ও নির্ভরযোগ্য দলিল যাচাই করা প্রয়োজন।

শেষ কথা

আখেরি চাহার শোম্বা আমাদের সামনে ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও শরিয়তের মাপকাঠিকে একসঙ্গে বোঝার একটি সুযোগ তৈরি করে।

ঐতিহ্যকে জানা যেতে পারে, মানুষের ধর্মীয় আবেগকে সম্মান করা যেতে পারে; কিন্তু শরিয়তের বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে কোরআন, সহিহ সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

তাই বলা যায়—ঐতিহ্য থাকুক, কিন্তু কুসংস্কার নয়; ভালোবাসা থাকুক, কিন্তু অপ্রমাণিত দাবি নয়; নেক আমল থাকুক, কিন্তু শরিয়তের নামে মনগড়া নির্দিষ্টতা নয়।

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ হলো তাঁর প্রমাণিত সুন্নাহ অনুসরণ করা। আর ধর্মীয় বিষয়ে সবচেয়ে বড় আমানতদারি হলো—যা প্রমাণিত, তা প্রমাণিত হিসেবে বলা এবং যা প্রমাণিত নয়, তা ধর্মের নামে প্রচার না করা।

তথ্যসূত্র:
কোরআন মাজিদ; সহিহ আল-বুখারি; সহিহ মুসলিম; ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ; ইসলামওয়েবের ফতোয়া সংকলন; দারুল ইফতা দেওবন্দের হানাফি ফিকহভিত্তিক প্রশ্নোত্তর।

লেখক: জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান, কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মহম্মদপুরে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ

কুলাউড়ায় স্যানিটারি রিংয়ের ভেতর ১০ বোতল বিদেশি মদ, যুবক গ্রেপ্তার

৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা, স্বামী গ্রেপ্তার

সারাদেশে লোডশেডিং, হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাইলো পল্লী বিদ্যুৎ

আলীকদমে জমি বিরোধে বিধবার মুরগির খামারে আগুন, থানায় অভিযোগ

আখেরি চাহার শোম্বা: ঐতিহ্য, প্রচলিত আমল ও শরিয়তের মাপকাঠি

মডেল মসজিদের টাইলসে প্রেমের কাহিনি, ইমামের সতর্কবার্তা- ‘বাবুরা, বি কেয়ারফুল’

বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ হস্তান্তর

দুই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান, জরিমানা ২০ হাজার টাকা

১০

বিশ্বনাথে প্রবাসীর উদ্যোগে ৪৫ শিক্ষার্থী পেল স্কুল ড্রেস

১১

শ্যামনগরে ৩ লাখ টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

১২

মোরেলগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ জন গ্রেপ্তার

১৩

খুলনায় জলবায়ু অভিবাসন কেন্দ্রের পরিচালন নির্দেশিকা প্রণয়নে যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৪

রামপালে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবার পেল সরকারি সহায়তা

১৫

জিপিএ-৫-এর সাফল্যে দাখিলে এগিয়ে দারুন্নাজাত

১৬

কুড়িগ্রামে ৪ স্কুলে পাস করেনি কেউ

১৭

এসএসসিতে এক বিষয়ে ফেল, শিক্ষার্থীর মৃত্যু

১৮

হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ১

১৯

জমির বিরোধে সংঘর্ষ, নিহত ১

২০