হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর মর্যাদা ও বিশেষ পুরস্কার

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা। মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে, অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের পথে এবং অন্যায় থেকে ন্যায়ের পথে ডাকার এই মহান দায়িত্ব যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ পালন করেছেন। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আলেম-ওলামা, দ্বীনের দায়ী এবং সচেতন মুসলমানদের ওপরও এই দায়িত্ব বর্তায়।

মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান : ১০৪)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, সমাজে এমন একটি দল থাকা প্রয়োজন যারা সর্বদা মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দেবে এবং তাদেরকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানাবে। এ দায়িত্ব শুধু বক্তব্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের জীবন ও চরিত্রের মাধ্যমেও ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মন্দ কাজ প্রতিহত করার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো অন্যায় কাজ দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিহত করে। যদি সে সক্ষম না হয়, তাহলে মুখের মাধ্যমে প্রতিহত করে। আর তাও সম্ভব না হলে অন্তরে তা ঘৃণা করে। আর এটিই ঈমানের দুর্বলতম স্তর।” (সহিহ মুসলিম)

আরো পড়ুন...  ইসলামী চিন্তাবিদ দুধরচকীর সুস্থতা কামনায় দোয়া

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর মধ্যে কিছু বিশেষ গুণ থাকা অপরিহার্য। প্রথমত, তার ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। জ্ঞান ছাড়া দাওয়াতের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, তার নিয়ত হতে হবে একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। ব্যক্তিগত খ্যাতি, সম্মান কিংবা দুনিয়াবি স্বার্থের উদ্দেশ্যে দাওয়াতি কাজ করলে সেই আমলের প্রকৃত মূল্য নষ্ট হয়ে যায়।

দাওয়াতের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞা ও অগ্রাধিকারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নবী-রাসূলদের পদ্ধতি ছিল প্রথমে তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের দিকে মানুষকে আহ্বান করা, এরপর ধীরে ধীরে নামাজ, রোজা, জাকাত, হজসহ অন্যান্য বিধান সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। তাই ইসলামের দাওয়াত দিতে হলে নবীজির (সা.) অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।

এ ছাড়া ধৈর্য, সহনশীলতা ও উত্তম চরিত্র একজন দায়ীর অন্যতম প্রধান গুণ। কারণ সত্যের পথে আহ্বান করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতা ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। নবী-রাসূলগণ কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়েও ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা নবী-রাসূলদের উত্তরাধিকার বহন করার শামিল। এ কারণে এ কাজের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। যারা আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন, তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা বিশেষ প্রতিদান ও সম্মানের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ লাভ করবেন এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হবেন।

আরো পড়ুন...  হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

আসুন, আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচারে ভূমিকা রাখি, সৎকাজের নির্দেশ দিই, অসৎকাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে জীবন পরিচালনা করি।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন, তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বীরগঞ্জে জমজমাট ঐতিহ্যবাহী পাতাখেলা

রোগ নির্ণয় সেবায় গতি আনতে রি-এজেন্ট হস্তান্তর

জনদুর্ভোগ কমাতে নলডাঙ্গায় প্রশাসনের গুরুত্বারোপ

ইন্টারনেট লাইনে কাজ করতে গিয়ে দুই হাত হারালেন সোহান

জগন্নাথপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা

যুবদল নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে ভাণ্ডারিয়ায় মানববন্ধন

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর মর্যাদা ও বিশেষ পুরস্কার

মোরেলগঞ্জে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

গাবুরায় জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী গঠনে অভিজ্ঞতা

ফুলবাড়ী বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

১০

পরিবারকে জিম্মি করে টাকা-স্বর্ণ লুট

১১

ঠিকাদারের মৃত্যুর পর বন্ধ সড়ক সংস্কার, মানববন্ধন

১২

আলম শাহ মসজিদের জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

১৩

সরকারি বীজ অবৈধ বিক্রি, কারাদণ্ড

১৪

সংবাদ প্রকাশের পরও কুলিয়ারচরে ফের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

১৫

কুড়িগ্রামে সাঁড়াশি অভিযানে ২২৬ অবৈধ জাল ধ্বংস

১৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৯৪ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার

১৭

ভিমরুলী ভাসমান বাজারে ডিজে-সাউন্ড বন্ধে প্রশাসনের অভিযান

১৮

মোরেলগঞ্জে সম্প্রীতির সমাবেশ

১৯

সুন্দরবন রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি

২০