গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইন্টারনেট লাইনের ত্রুটি মেরামতের কাজ করতে গিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারিয়েছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ মো. সোহান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোহান কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা পলানপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও রকি আহমেদের ছেলে। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি স্থানীয় দুই ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসায়ী হানিফ ও তারেকের অধীনে কাজ করতেন।
পরিবারের দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে দুপুরে উপজেলার খাড়াজোড়া এলাকায় ইকোনিটস গার্মেন্টসের সামনে ইন্টারনেট লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। ওই ত্রুটি মেরামতের জন্য সোহানকে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সোহান প্রথমে খুঁটিতে উঠতে অনীহা প্রকাশ করলেও তাকে জোরপূর্বক সেখানে উঠানো হয়।
খুঁটিতে ওঠার কিছুক্ষণ পরই তিনি উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করেন।
প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, বিদ্যুতের তীব্রতায় তার দুই হাত সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। জীবন রক্ষার স্বার্থে চিকিৎসকদের উভয় হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। এছাড়া তার ঘাড়, বুক ও পায়ের বিভিন্ন অংশেও গুরুতর দগ্ধ হয়েছে।
এ ঘটনায় সোহানের বাবা রকি আহমেদ বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ভাতারিয়া পূর্বপাড়া এলাকার হানিফ (৩০), পিতা- আব্দুর রহিম এবং তারেক (৩০), পিতা- কবির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই সোহানকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল, যার ফলেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন সোহান। তার চিকিৎসা ব্যয় ও ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে পরিবার। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
স্থানীয়দের মতে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন