পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও নগদ দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান ১২ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
জানা যায়, গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মাগুরা প্রধানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মাহামুদ আলম প্রধান ৭১ নম্বর গড়িনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
থানায় দায়ের করা এজাহারে মাহামুদ আলম প্রধান উল্লেখ করেন, সফিজুল, নুর ইসলাম, বাবুসহ তাদের বংশীয় লোকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে অর্ধদিবস ছুটি নিয়ে ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাজের আগে দুপুরের খাবার খেতে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন তার পথরোধ করে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে গলা থেকে পা পর্যন্ত রশি দিয়ে বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার স্কুলব্যাগে জমি বন্ধকমুক্ত করার জন্য রাখা নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা হামলাকারীরা নিয়ে যায়। পাশাপাশি তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হত্যা, মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া এবং বাড়িতে আগুন দিয়ে পরিবারের ক্ষতি করারও হুমকি দেওয়া হয়।
মাহামুদ আলম প্রধানের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে কেউ ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, “ভিডিওতে সবাই দেখেছেন আমাকে কীভাবে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
অভিযুক্ত আনসার আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে বিষয়টি শুনেছি।”
মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বলেন, “মোবাইলে জানতে পেরে গ্রাম পুলিশকে পাঠিয়েছিলাম। তবে এর আগেই ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।”
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষকের দেওয়া এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন