নিজেস্ব প্রতিবেদক
১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

মিথ্যা অভিযোগে জেল হাজতের শিকার রোমিও, জন্মনিবন্ধনের সত্যতা প্রমাণে জামিনে মুক্তি

রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার আহসান হাবিব রোমিও অবশেষে আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন। মামলাটির মূল অভিযোগ ছিল নাবালিকা অপহরণ, যেখানে ভুয়া জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে রোমিওকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যখন রুনা লায়লা তার মেয়ে মোহসিনা আক্তারের নিখোঁজ হবার অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে এবং রোমিওকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠায়। গ্রেফতারের সময় রোমিও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ মহানগর নারী ও শিশু আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। আদালত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মোহসিনাকে হাজির করার নির্দেশ দেন এবং জন্মনিবন্ধনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

তদন্তে প্রমাণিত হয়, মামলাকৃত জন্মনিবন্ধন ভুয়া এবং মোহসিনা খাতুন সেচ্ছায় রোমিওর সঙ্গে গেছেন। তিনি ১৮ বছরের বেশি বয়সী এবং লিখিত কাবিননামা অনুযায়ী তাদের বৈধভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। আদালত এই প্রমাণের ভিত্তিতে রোমিওকে জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখযোগ্য, আহসান হাবিব রোমিও একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা সেন্ট্রাল ব্রাঞ্চে দায়িত্বে রয়েছেন। তার সামাজিক ও মানবাধিকার কার্যক্রমের জন্য দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার অর্জিত।

আরো পড়ুন...  জগন্নাথপুরে মদীনাতুল খাইরী আল-ইসলামীর উদ্যোগে হামদ-নাত ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, মিথ্যা মামলা ও প্রকাশিত ভুয়া সংবাদ জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে পুলিশের সহযোগিতা, প্রাক্তন স্ত্রী রীপা এবং বাদিনী রুনা লায়লাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এছাড়া কিছু সাংবাদিক ও সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া প্রচারণাও চালানো হয়েছিল।

রোমিওর সংস্থা, কর্মকর্তা ও সমর্থকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশ-বিদেশের সমাজকর্মীরাও মিথ্যা অভিযোগ ও ভুয়া সংবাদকে নিন্দনীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, মিথ্যা মামলা ও ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত, জন্মনিবন্ধনের সত্যতা যাচাই এবং আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

মোহসিনা খাতুনের লিখিত জবানবন্দি প্রমাণ করে, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক, যা সমাজে অন্যায় প্রতিরোধ এবং নিরপরাধদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আরও প্রকট করেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পানছড়ি সীমান্তে গোলাবারুদ উদ্ধার

ভাণ্ডারিয়ায় পরিবার পরিকল্পনায় অনিয়মের অভিযোগ

মহিপুরে যুব অধিকার পরিষদ সভাপতির পদত্যাগ

সেচ সংকটে মাঠে এমপি বুলবুল

ইসলামপুরে বিএনপি নেতাদের জামায়াতে যোগদান

কাঠালিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

১০

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

১১

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

১২

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

১৩

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

১৪

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

১৫

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১৬

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১৭

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১৮

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৯

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

২০