বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের কৈগরদাশকাঠি চরে সরকারি খাস জমি দখল, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্থানীয় ভূমিহীন বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে খাস চরে বসবাসরত প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি সদস্য হালিম ও তার সহযোগীরা সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে আসছেন। তাদের দাবি, এসব দখলদারিত্বের কারণে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, উচ্ছেদের হুমকি এবং বিভিন্নভাবে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত খাস জমিতে বহু বছর ধরে বসবাস করে আসছেন অসহায় ভূমিহীন পরিবারগুলো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তাদের বসতভিটা রক্ষা এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তারা ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আ. হালিম তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে দেখলেই সত্য উদঘাটন হবে।”
এদিকে, একসঙ্গে প্রায় পাঁচ শতাধিক ভূমিহীন মানুষের মানববন্ধনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তীও জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভূমিহীনদের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
মন্তব্য করুন