কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর চাতুরতায় সরিয়ে নেওয়া বৈদ্যুতিক পোল সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে অবশেষে নির্ধারিত স্থানেই পুনরায় স্থাপিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বড় ধরণের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও সম্ভাব্য প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে স্থানীয় অন্তত ২০টি পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা শহরের কাচারিপাড়া এলাকায় কুদ্দুস চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের জমি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন ‘মোল্লা স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী রেজাউল মোল্লা। তার জমির সীমানায় থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৫০ বছরের পুরনো একটি পোল সরানোর জন্য তিনি অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকৃত তথ্য গোপন করে বিদ্যুৎ বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনৈক ব্যক্তিকে ভুয়া মালিক সাজিয়ে পোলটি সরানোর আবেদন করেন।
প্রাথমিকভাবে পোলটি সরিয়ে কুদ্দুস চেয়ারম্যানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রাস্তার দিকে স্থাপনের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তা রুখে দেয়। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই স্থানে একটি নড়বড়ে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ২০টি পরিবারের হাই ভোল্টেজ মেইন লাইনের সংযোগ দেওয়া হয়। যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ আইনের পরিপন্থী। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই মরণফাঁদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।
বিষয়টি ভেড়ামারার স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। সাংবাদিকদের তৎপরতায় টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। গত বৃহস্পতিবার তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রেজাউল মোল্লার আঙ্গিনায় আগের নির্ধারিত স্থানেই পুনরায় স্থায়ী পোল স্থাপন করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক করেন।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানান, “রেজাউল মোল্লা তথ্য গোপন করে পোলটি সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সেটি আগের স্থানে স্থাপন করেছি।”
এদিকে অভিযুক্ত রেজাউল মোল্লা দম্ভোক্তি করে বলেন, “আমার জমিতে আমি যা খুশি করব, কারো কিছু বলার নেই।” তবে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার কারণে বড় ধরণের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে কাচারিপাড়ার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন