রাজশাহী নগরীতে সড়ক সম্প্রসারণ কাজের অংশ হিসেবে প্রায় ৩০টি কাঠবাদাম গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণের পর সড়কের প্রস্থ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে গাছগুলো অপসারণ করেছে সিটি করপোরেশন। তবে উন্নয়নের এ উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নগরীর রাজীব চত্বর থেকে কলাবাগান হয়ে ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের এক পাশজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াবৃক্ষগুলো বৃহস্পতিবার থেকে কাটা শুরু হয়। রোববার শেষ তিনটি গাছ কাটার মধ্য দিয়ে পুরো কার্যক্রম শেষ করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে অধিকাংশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং রাস্তার পাশে গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। শ্রমিকরা করাত দিয়ে গাছের গোড়া কেটে অপসারণের কাজ সম্পন্ন করেন।
জানা গেছে, নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ২০১০ সালের দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০টি কাঠবাদাম গাছ রোপণ করেছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরে এসব গাছ বড় হয়ে এলাকাজুড়ে ছায়া প্রদান এবং পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব রাখছিল। তবে সম্প্রতি ওই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে সড়কের প্রস্থ কমে যাওয়ায় তা সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়, যার ফলে গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা তুহিন আলী বলেন, “এই এলাকায় যানবাহনের তেমন চাপ নেই। অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাছ কাটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।”
গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সরদার মো. গাজী জানান, সিটি করপোরেশনের নিলামের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ী গাছগুলো ক্রয় করেছেন এবং আটজন শ্রমিক চারদিন ধরে কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান বলেন, বন বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী সকল নিয়ম মেনে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তিনি জানান, “ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে সড়কের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটারেরও কম হয়ে গেছে। তাই রাস্তা সম্প্রসারণ এবং ড্রেনের ওপর ফুটপাত নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষে ওই এলাকায় নতুন করে গাছ লাগানো হবে।”
তবে পরিবেশবাদীরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজশাহীর পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম’-এর সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, “নতুন গাছ লাগানোর আশ্বাস দিয়ে পুরোনো, পরিণত গাছ কেটে ফেলা কোনো টেকসই সমাধান নয়। গাছ রেখেও উন্নয়ন সম্ভব—এই চিন্তাধারা এখনো প্রকৌশল পরিকল্পনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।”
সবমিলিয়ে, উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে রাজশাহী নগরীতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় আরও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
মন্তব্য করুন