খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর পাঠবৃত্ত’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনের মাল্টিপারপাস রুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কথা হোক বিস্তর: উপভোগ্য হোক জীবন নামক অবিকল্প উপহার’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রবণতা কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটিভেশনাল সেমিনার, কাউন্সেলিং কার্যক্রম এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রধান ও কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. দুলাল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. শেখ মো. রজিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি শিক্ষার্থীদের আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো চরম সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ডা. মামুন হুসাইন। তিনি আত্মহত্যা প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত লেখক, কবি ও দার্শনিকদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং বলেন, সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মানসিক জটিলতা বাড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকারকে সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। সেমিনারে বক্তারা আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, সহমর্মিতা গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন