ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে, যা বন্দরের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা মেনে চলার অংশ হিসেবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এদিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কোনো পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখেননি। একই কারণে বাংলাদেশ থেকেও ভারতে কোনো পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে না। ফলে দু’দেশের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন একদিনের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
তবে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও হিলি চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি, ফলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নেই সীমান্ত পারাপার করতে পারছেন।
হিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান এ বিষয়ে জানান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিতেও। তিনি বলেন, “আজ সারাদিন কোনো পণ্য লোড-আনলোড বা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শুক্রবারও বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে টানা দুই দিন বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর আগামী শনিবার থেকে পুনরায় হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের সাময়িক বন্ধ বন্দরনির্ভর ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব ফেললেও এটি পূর্বনির্ধারিত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ হলে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়ে থাকে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই যেকোনো কারণে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এর প্রভাব সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ওপর পড়া স্বাভাবিক।
মন্তব্য করুন