তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে রাজশাহীর জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দিনে অল্প সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও পরবর্তী এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় নগরজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য—সবক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কাজকর্ম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় ঘরের ভেতর অসহনীয় গরম সৃষ্টি হচ্ছে। পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক এলাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল চার্জিংসহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা শিক্ষার্থীরা জানায়, দিনের বেলা অতিরিক্ত গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাতে কিছুটা স্বস্তিতে পড়তে বসলেও হঠাৎ লোডশেডিং শুরু হওয়ায় তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি গ্রাহকসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করতে চাইলেও জ্বালানি সংকটের কারণে সেটি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটও নতুন করে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। নগরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ফলে জেনারেটর নির্ভরতা থাকলেও সেটি কার্যকরভাবে বজায় রাখা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে রাজশাহীতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মন্তব্য করুন