পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এ শিশুদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল (এইচসিআই)। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের বাস্তবায়নে পরিচালিত চাইল্ড স্পন্সরশিপ প্রোগ্রামের আওতায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টায় ক্যাম্প-৪ এর সিআইসি অফিস দরবার হলে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ক্যাম্প-৪ এর কেয়ার অ্যান্ড মেইন্টেনেন্স অফিসার ইকবাল হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিএইচই অফিসের মোঃ মাসুদ রানা এবং সাইট ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট (এসএমএস)-এর প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উৎসবের আনন্দ সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশুদের জীবন নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাটছে। তাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় মোট ২৩৯ জন রোহিঙ্গা শিশুর মাঝে ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল মুড়ি, গুঁড়া দুধ, ছোলা, লাচ্ছা সেমাই, ডাল, সয়াবিন তেল, আটা, ডিটারজেন্ট পাউডার, সাবান, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, চিনি, লাল মরিচ গুঁড়া, লবণ এবং নুডলস। এছাড়াও ৭৬ জন কন্যা শিশুর মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।
সুশীলনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ আরিফুল ইসলাম, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর আঁখি পারভিন, সোবহান আলী এবং জাহিদুল হক। তারা জানান, রোহিঙ্গা শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
খাদ্য সামগ্রী পেয়ে শিশুদের মাঝে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। অনেক শিশুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সুশীলন ও এইচসিআই-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের মতো উৎসবকে ঘিরে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ রোহিঙ্গা শিশুদের মাঝে সাময়িক হলেও স্বস্তি ও আনন্দ এনে দেয়, যা তাদের মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন