সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ১০০০ লিটার ধারণক্ষমতার ৬০টি পানির ট্যাঙ্ক বিনামূল্যে বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশন। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৩টায় ৭১নং বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
ফেইথ ইন এ্যাকশন গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামে কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহযোগিতায় “জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি” প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২০১৫টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সক্ষমতা বাড়াতে প্রাথমিক দলের ৪২ জন নারী ও ১৮ জন পুরুষের মাঝে মোট ৬০টি পানির ট্যাঙ্ক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনজুর হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, ফেইথ ইন এ্যাকশনের অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য, জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাসসহ সংস্থার কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটরবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে নারীরা প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করতে বাধ্য হন, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, “গাবুরা ইউনিয়নে নিরাপদ পানির অভাব প্রকট। এখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পানি সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফেইথ ইন এ্যাকশনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী।” তিনি উপকারভোগীদের পানির ট্যাঙ্ক যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি ইউপি সদস্য মো. মনজুর হোসেন বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে কয়েক মাসের জন্য পানির সংকট মোকাবিলা করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ পাত্রের অভাবে অনেকেই তা করতে পারে না। ফেইথ ইন এ্যাকশনের এই সহায়তা স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী।” তিনি ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক ট্যাঙ্ক বিতরণের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে উপকারভোগীরা এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনে পানির কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে।
স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে পানির সংকট দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন