বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর যৌথ আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জনাব আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, অধ্যক্ষ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ এবং এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন, সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তাধারার ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, সমগ্র বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর রচিত গান, কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক অবক্ষয়, নৈতিক সংকট ও মানবিক মূল্যবোধের অবনতির প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্র দর্শনের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। তাঁর শিক্ষা ও মানবতাবাদী চিন্তা সমাজকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মত দেন।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। পরিবেশনায় অংশ নেওয়া শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেন।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক উৎসবমুখর ও সাংস্কৃতিক আবহ। উপস্থিত দর্শক ও অতিথিরা পরিবেশনাগুলো উপভোগ করেন এবং শিল্পীদের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একবাক্যে মত প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের আয়োজন সাংস্কৃতিক চর্চা ও সাহিত্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারে।
মন্তব্য করুন