ভালোবাসার সম্পর্কে সব বাধা উপেক্ষা করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন এক হিন্দু তরুণী। তবে বিয়ের পর সুখের সংসার শুরু হওয়ার আগেই স্বামীকে যেতে হয়েছে কারাগারে। ঘটনাটি ঘিরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বশির সরদারের ছেলে মো. তামিম হাসান এবং পার্শ্ববর্তী ফলাঘর গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র সাহার মেয়ে প্রিয়ন্তী রানী সাহার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে দুজনের ধর্ম ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা তৈরি হয়। পরিবারের আপত্তির মুখে তারা কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। পরে ওই তরুণী স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম নেন জান্নাতি ইসলাম।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে গত ৩ মে দুই লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।
কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। তরুণীর পরিবার বিষয়টি মেনে না নিয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার নবদম্পতিকে আটক করে।
পুলিশ তামিম হাসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় এবং তরুণী জান্নাতি ইসলামকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
এদিকে, তামিম হাসানের পরিবার দাবি করেছে, দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের সম্মতিতেই বিয়ে করেছেন।
তামিমের বাবা বশির সরদার বলেন, “ছেলে-মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর আমি মেয়ের পরিবারকে জানিয়েছিলাম। আমি কখনো চাইনি তারা পালিয়ে বিয়ে করুক। তবে তারা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক। এখন আমার ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
অন্যদিকে তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের মেয়েকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এবং তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ কারণেই তারা মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের পর নবদম্পতি নতুন জীবন শুরু করতে চাইলেও মেয়ের পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে ভালোবাসার জয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আদিল হোসেন বলেন, জিডির ভিত্তিতে তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়ের পরিবারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ছেলেটিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের অধীনে রয়েছে।
মন্তব্য করুন