ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে এক তরুণীর অবস্থান ধর্মঘটের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রামের বাসিন্দা জান্নাতি আক্তার (২০) নামের ওই তরুণী দাবি করেছেন, প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে তার সঙ্গে শাকিল ইসলামের বিয়ে হলেও বর্তমানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে অস্বীকার করছেন। এ অবস্থায় স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে তিনি স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (৭ মে ২০২৬) সকালে কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জান্নাতি আক্তার কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার উলিপুর গ্রামের আব্দুল জলিল মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত শাকিল ইসলাম (২২) একই গ্রামের নুরুল হক মোল্লার ছেলে।
ভুক্তভোগী জান্নাতি আক্তার জানান, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরির সুবাদে শাকিল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারস্পরিক সম্মতিতে প্রায় এক বছর আগে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে দাবি করেন তিনি।
জান্নাতির ভাষ্যমতে, বিয়ের পর শাকিল তাকে দুইবার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সে সময় শাকিলের মা মনিরা বেগম, বাবা নুরুল হক মোল্লা, ভাই সোহেল ও বোন সোনিয়া আক্তার তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর তারা ঢাকার লতিফপুর বোড়া মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতেন। তবে গত ১৪ এপ্রিল হঠাৎ করে শাকিল কোনো কিছু না জানিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর কোনো যোগাযোগ করেননি।
পরবর্তীতে স্বামীর সন্ধানে নিজের ছোট বোন পাখিকে সঙ্গে নিয়ে কাঁঠালিয়ার শৌলজালিয়া গ্রামে শাকিলের বাড়িতে আসেন জান্নাতি। তবে তিনি বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই শাকিলের পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অবস্থান ধর্মঘটে থাকা জান্নাতি আক্তার বলেন, “আমার স্বামী আমাকে বিয়ে করেছে। এখন কেন অস্বীকার করবে? আমি আমার স্বামীর স্বীকৃতি চাই। যতক্ষণ পর্যন্ত শাকিল এসে আমাকে গ্রহণ না করবে, ততক্ষণ আমি এখান থেকে যাব না। প্রয়োজনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেব।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উভয় পরিবারের মধ্যে আলোচনা হওয়া জরুরি। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শাকিল ইসলাম কিংবা তার পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন