মৌলভীবাজারের ১০নং নাজিরাবাদ ইউনিয়নের কমলাকলস এলাকার বাসিন্দা মো. লিটন বকস তার পৈতৃক জমি নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে অনুপ্রবেশ, ফিশারি ও গরুর ফার্ম ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (৬ মে) বিকাল ৫টায় মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিটন বকস দাবি করেন, তার মালিকানাধীন মৌরসী সম্পত্তির ওপর নির্মিত ফিশারি ও গরুর ফার্মের ঘর একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক ভেঙে ফেলেছে। বর্তমানে জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তাদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া গোবিন্দপুর মৌজার জে.এল নং-১৬১, এসএ খতিয়ান-৮, এসএ দাগ-৪৩০ এর প্রায় ৪০.৬৩০ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পরবর্তীতে সেটেলমেন্ট জরিপের সময় ভুলবশত কিছু অংশ সরকারের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। এ নিয়ে মৌলভীবাজার যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং-২১০/২০১৪) চলমান রয়েছে।
লিটন বকস আরও জানান, উক্ত মামলায় কয়েকজন ব্যক্তি ২০ একর জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে পক্ষভুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ ১৮-২০ বছর ধরে ওই এলাকার শ্রীখাইল হাওর এলাকায় তাদের পরিবারের ফিশারি ও গরুর ফার্ম পরিচালিত হয়ে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুরে ফরহাদ মিয়া (৩২), মো. নোমান মিয়া (৪২)সহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ তার ফিশারি ও ফার্ম এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় দা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, হাতুড়ি ও জিআই পাইপসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা একটি টিনশেড ঘর, ফার্মের নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙে ফেলে। প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ৬টি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য আরও ৬ লক্ষ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য, ইঞ্জিন, ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। ঘটনার সময় ভয়ে স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি বলেও তিনি জানান।
লিটন বকস বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তিনি মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করতে গেলে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তার মা গুরুতর অসুস্থ থাকায় তিনি সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মন্তব্য করুন