কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় গবাদিপশুকে প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে ইউনিয়ন পর্যায়ে এই টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ঝাটিয়ারখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন সাগরের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. লাভলু মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তব্য প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজি, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ হাসান, উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়ক মামুন মজুমদার, যুগ্ম সমন্বয়ক মো. খালেদ রায়হান, খামারি আবু তাহের হানিফ ও পারভিন আক্তার।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তা, লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, বাজার কমিটির সদস্য, সমাজসেবক ও খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন সাগর বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) গরুর জন্য অত্যন্ত মারাত্মক একটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ, যা দ্রুত এক পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের শেষে, শরতের শুরুতে কিংবা বসন্তকালে মশা-মাছির আধিক্যের কারণে এ রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। ফলে খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
তিনি আরও জানান, এ রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের সহায়তায় প্রায় তিন হাজার খামারির গবাদিপশুকে বিনামূল্যে এলএসডি টিকা প্রদান করা হবে। এতে করে পশুর মৃত্যুহার কমবে এবং খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, সরকারি এই কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় খামারিদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি টিকাদান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এলএসডি প্রতিরোধে এই টিকাদান কর্মসূচি চৌদ্দগ্রামের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং খামারিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন