চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপকে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আসলাম কবীর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মোঃ হাসানুল মবিন, ড. মোঃ কামরুল আহসান এবং ড. মোঃ আব্দুল আউয়ালসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, “এসএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি হয়। তাই সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, তাদেরকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। শিক্ষার্থীরাও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন, যা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে তাদের সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছা স্মারক দিয়ে বড় ভাই-বোনদের বিদায় জানান।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন