সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উপজেলা যুবদলের অন্যতম সহ-সভাপতি শহীদ হাফিজুর রহমান হাফিজের ২৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং বলেন, এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জগন্নাথপুর বাজারের ইকড়ছই মাদ্রাসা পয়েন্টে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল হাশিম ডালিম। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুবেদ আলী লখন এবং পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামিম আহমেদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তিনি শহীদ হাফিজুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই নতুন করে তদন্তের মাধ্যমে যারা শহীদ হাফিজকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না—শহীদ হাফিজের বিচার হবেই।”
তিনি তার বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উন্নয়ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন। বলেন, জনগণের কল্যাণে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সুহেল, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহিন, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিনসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভা শুরুর আগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে শহীদ হাফিজুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন এবং তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহীদ হাফিজুর রহমান হাফিজের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শহীদ হাফিজের হত্যার বিচার নিশ্চিত হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন