চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় বিনামূল্যে ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলা চত্বরে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিপ মৌসুমে আউশ ধানসহ গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিল ও পাটের আবাদ বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাকলাইন হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকির মুন্সি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, আর কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, “উন্নত জাতের বীজ ও সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। কৃষকদের উচিত আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি পরামর্শ মেনে চলা, যাতে তারা কম খরচে বেশি ফলন পেতে পারেন।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার পারভেজ, উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার সেরাজুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব, ইব্রাহিম খলিল ও আল ফুয়াদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সঠিক সময় ও পদ্ধতিতে বীজ রোপণ এবং সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন কৃষককে এক বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি করে আউশ (উফশী) ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া আলাদাভাবে ৬ হাজার কৃষকের মধ্যে আউশ বীজ ও সার, ১৭০ জনকে মুগ বীজ, ৭০ জনকে তিল বীজ এবং ৩০ জন কৃষককে পাট বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এমন প্রণোদনা কর্মসূচি তাদের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে গোমস্তাপুর উপজেলায় খরিপ মৌসুমে ফসলের আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন